রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবরোধের হুমকি সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর প্রভাবে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ৩২ সেন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬০ ডলারে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ ডলার ৩২ সেন্টে।
পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স জানান, রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা এবং ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনে অবরোধের হুমকির কারণে দাম বেড়েছে।
ভেনিজুয়েলা অবরোধের কারণে দৈনিক প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের রফতানি প্রভাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএনজির বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভেনিজুয়েলার কাস্টমস ডাটা অনুযায়ী, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ সাইবার হামলার কারণে সাময়িক বন্ধের পর আবার অপরিশোধিতসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের লোডিং শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ গত বুধবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো রাশিয়াবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
আইএনজির বিশ্লেষকরা একটি নোটে জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে বাজারে বড় সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে দেশটির পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে পুনরায় ছাড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়িয়েছে। বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল ছাড়াতে পারে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশটি নভেম্বরে রাশিয়া থেকে ১৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা অক্টোবরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
এলএসইজির প্রাথমিক ট্রেড ফ্লো ডাটা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি ছাড়াতে পারে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলে। মাস শেষে গড়ে তা দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেনা শুরু করলে জানুয়ারিতেও ভারতে রাশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ ডিসেম্বরের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে জানুয়ারিতে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ১০ লাখের চেয়ে কম হবে।